মেসায়া - রিমি মুৎসুদ্দি

ধুলোয় ঢেকে যাওয়া ভাষা
আর নতুন শব্দের বিস্ফোরণ
তবুও লেখা হল না কোন মহাকাব্য
সমস্ত সন্ধ্যা জুড়ে টেবিল ল্যাম্পের আলোয়
এসে বসা প্রতিটা ভাবনাই এক একটা অনুধ্যান
অশ্রুত শঙ্খধ্বনি যেন উদ্বাস্তু জীবনের উপাখ্যান

মাঠের স্বপ্নকে পিছনে ফেলে রেখে
যুগ যুগ ধরে
তারা অহল্যা মন্দোদরী কুন্তী  দ্রৌপদী-
পঞ্চসতীর সতীত্ব ধারণ করেও
প্রবল দীপ্তিতে প্রোজ্জ্বল ভালবাসারও
মাতৃত্ব পেরোতে লিখে যেতে হল
সন্তানের কুরসীনামা

গুপ্তঘাতকের চক্রান্ত ব্যর্থ করে
‘আত্মদীপ ভবো’ নির্দেশ দিয়ে যেতে হল তথাগতকে
আবার একই সময় আথেন্স শহরে
রাষ্ট্রের নির্দেশে বিষপান করতে হল সোক্রাতিসকে
মরে যাওয়া অথবা মরে গিয়েও বেঁচে ওঠা
প্রতিটা বিপ্লবই আসলে নির্বেদ অথবা নির্বাণ।

যন্ত্রণায় পোড়া আত্মায় তুমি শুদ্ধতা খোঁজ,
আর শব্দের কাছে সান্ত্বনা?
আসলে দ্রোহকে আগুন ভেবে জ্বালিয়ে
ক্রমাগত শুকনো পাতার জ্বালান দিয়ে
যেদিন পরমান্ন রেঁধেছিলে সুজাতা
সেদিনই সে জানত
ইতিহাসে কোনদিন হবে না সে অমৃতা।

প্রবজ্যাই একমাত্র বিদ্রোহ জেনেই
প্রতিটা উপকথা একদিন স্বীকার করবে
          সুজাতাই বুদ্ধোক্ত মেসায়া    
নদীর আদিম অকৃত্রিম সরলতাগুলো
       সেদিন আর মিশবে না মোহনায়
গতিপথ জুড়ে বিস্তৃত সব নুড়িপাথর একা হতে শিখে যাবে।