দিন দুয়েক আগে উত্তরবঙ্গ থেকে ফোন করেছিলেন এক বন্ধু, যিনি চা বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে শিক্ষা-স্বাস্থ্য নিয়ে কর্মরত একটি অসরকারি সংস্থার কর্ণধার। সদ্য পর্বে তিনি আক্রান্ত হলেন তীব্র উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কে! মৃত্যুভয় ততটা নয়, যতটা সামাজিক হেনস্থা ও বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা! সেই আশঙ্কার রেশ এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি সেই বন্ধু।
সেই আশঙ্কাকে সত্যি প্রমাণ করলো কলকাতা মহানগরী। গতকাল সকালেই আনন্দবাজার পত্রিকায় চোখে পড়লো 'হাসপাতাল-ফেরত বৃদ্ধকে করোনা-রোগী সন্দেহে মার'। সত্তরোর্ধ নারায়ণ চৌরাশিয়া দীর্ঘদিনের লিভারের অসুখে আক্রান্ত। আরজিকর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে ফিরছিলেন, শেষে ক্লান্ত হয়ে মাঝ রাস্তায় বসেণ পড়েন তিনি, দু'হাতেই স্যালাইনের চ্যানেল, মাথায় সার্জিক্যাল ক্যাপ, মুখে মাস্ক। 'নির্ঘাত করোনা রোগী, পালিয়ে এসেছে হসপিটাল থেকে', ঝাঁপিয়ে পড়লো লোকজন, 'করোনা হয়নি আমার' বলা
সত্ত্বেও জুটল মারধোর, মাথায় ক্ষত আর দু'হাতে চোট নিয়ে এখন বাড়ির নিরাপদ আশ্রয়ে।
একেবারে প্রথম দিকে এক আমলা-পুত্রের বিদেশ থেকে করোনা-সংক্রমণ নিয়ে ফেরার পর, সমস্ত বৃত্তান্ত জানা-বোঝার আগেই যেভাবে আমরা খবরের কাগজ-টেলিভিশন-সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝাঁপিয়ে পড়লাম সেই যুবক এবং তার পরিবারের ওপর তা 'মব লিঞ্চিং' থেকে কোনো অংশে কম নয়! বিদেশ থেকে যেই ফিরছে, তাঁদের ছবি দিয়ে, নাম দিয়ে শুরু হয়ে যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার! যদি মেনেও নিই, এই ব্যক্তিরা দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করেছেন! তাহলেও আমরা যা করলাম, তা কি যুক্তিগ্রাহ্য হয়ে যায়!
আমার এক সাংবাদিক বন্ধুর বিশেষ পরিচিত এক বিদেশী নাগরিককে তাঁর ভাড়া বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হলো শুধুমাত্র তিনি শ্বেতাঙ্গ বলে!
একই অভিজ্ঞতা হলো এই কলকাতা মহানগরেই বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক ও নার্সদের। 'বাড়িওয়ালা বাড়িতে ঢুকতে দিচ্ছেন না'---এই অসহায়তার মুখোমুখি হলেন অনেকেই। তাঁদের অপরাধ, তাঁরা চিকিৎসা-পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত! তার মানে তাঁদের করোনা-রোগী দেখতে হচ্ছে, তার মানে তাঁরা করোনার ভাইরাস বয়ে বেড়াচ্ছেন, তার মানে এতে আমরা সবাই সংক্রমণের শিকার হবো! সুতরাং, খেদাও এঁদের!
করোনা-আক্রান্তের মৃতদেহ ফিরিয়ে আনতে হয়েছে শ্মশান থেকে! স্থানীয় মানুষের বাধায় দাহ করা যায়নি, রাতের অন্ধকারে প্রশাসন দাহ করে জঞ্জাল ফেলার মাঠে! অথচ, জলাতঙ্কে মৃত কোনো ব্যক্তিকে কখনো এই অবমাননার মুখোমুখি হতে হয়নি!
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়া কি কোনো অপরাধ? লেবেল দেগে দেওয়া হচ্ছে তাঁদের গায়ে! তাঁদের অপরাধী হিসাবে গণ্য করা হচ্ছে? তাঁদের পরিবারের উদ্দেশ্যে ছুটে আসছে নানা বাক্যবাণ! বাড়িতে যদি কেউ আক্রান্ত হন--- রীতিমতো আতঙ্কে থাকছেন সেই পরিবারের মানুষ, যতটা না, করোনা-সংক্রমণের কারণে তার থেকে বেশি সামাজিক হরেক রকম হয়রানির আশঙ্কায়! গোপনীয়তার সমস্ত নৈতিকতা জলাঞ্জলি দিয়ে সংবাদ মাধ্যমে চলছে এক ধরনের খাপ পঞ্চায়েত! আক্রান্তকে একবারও না-দেখেই দেগে দেওয়া হচ্ছে, 'বর্ডারলাইন পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার'-এর ছাপ! এই অসংবেদনশীলতাও বোধহয় আমাদের 'অর্জন'!
করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা আজ সামাজিক জীব হিসাবে আমাদের কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
আমরা যে মানবিকতার কথা বলি, যে শিক্ষা-দীক্ষার কথা বলি, যে সভ্য আচরণের কথা বলি---এগুলো আমরা অনেকেই হঠাৎ যেন ভুলে গেলাম! মনের মধ্যেকার স্বার্থপর, আত্মকেন্দ্রিক, নখ-দাঁত বের করা উন্মত্ততাই আমাদের পরিচয় হয়ে দাঁড়ালো! তাহলে কি বিপর্যয়ের সময়েই আমাদের আসল চেহারা উন্মোচিত হয় সমস্ত আড়াল সরে গিয়ে! অন্যের অবস্থানে, তাঁর পরিস্থিতিতে নিজেকে রেখে, তাঁর অনুভূতিকে বোঝার সংবেদনশীলতা হারিয়ে ফেলেছি আমরা।
মানুষের মানবিক বোধের, মনুষ্যত্বের আসল পরীক্ষা বিপর্যয়ের দিনে, সংকটের সময়ে। সেই সময়েই আমাদের মানবিক সত্তা কতটা দৃঢ়, তা বুঝে নিতে পারি। এই সময়ে আমাদের অনেকেরই মানবিক, সভ্য, ভদ্র মুখোস নিজেদের অজান্তেই খসে পড়ে, বাইরে বেরিয়ে আসে ভিতরের সংকীর্ণ স্বার্থপরতা, হিংস্রতা। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের এই অতিমারির সময়ে এমনই কিছু দৃশ্যের মুখোমুখি হলাম আমরা, এমনই কিছু অভিজ্ঞতা আমাদের হলো যেখানে মনুষ্যত্বের অবমাননাই প্রকট হয়ে উঠলো।
আমাদের মধ্যে স্বার্থপরতা নতুন কিছু নয়! বরাবরই তা ছিল। তার সঙ্গে পরার্থপরতাও ছিল। ছিল, অন্যের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানো, সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া। এমনকি কখনো কখনো নিজের বিপদের ঝুঁকি সত্ত্বেও অন্যের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়াও ছিল আমাদের ঐতিহ্য! সাম্প্রতিককালে সেই সামাজিক যৌথতা, অন্যের পাশে দাঁড়ানোর প্রবণতা চোখে পড়ার মতো কমতে শুরু করলো! 'কৃতি সংবর্ধনা পাওয়া' গোপাল আরও সাফল্যের লক্ষ্যে ক্রমশ আরও আত্মকেন্দ্রিক হয়ে উঠলো, আর 'ডানপিটে'-'বখে যাওয়া' রাখালদের বাবা-মাও ধরে-বেঁধে তাদের 'গোপাল' করে তুলতে উঠে পড়ে লাগলেন!
মূলত নম্বর-কেন্দ্রিক, আত্মমুখী শিক্ষা যে সত্যিকারের মানবিক বোধ সম্পন্ন হয়ে ওঠার, জনস্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠার, অন্যের প্রতি সমানুভূতি-প্রবণ হয়ে ওঠার শিক্ষা দিতে অপারগ, তা এই ঘটনাগুলোর মধ্যে দিয়ে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠলো।
অন্যদিকে এক ধরনের রাজনৈতিক মতাদর্শও আমাদের মধ্যে এই আত্মকেন্দ্রিকতার প্রবণতাকে বাড়িয়ে চলেছে। যেখানে শুধু ভারত নয়, গোটা বিশ্ব জুড়েই এক অদ্ভুত ধারণা চারিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তা হলো, আমি খারাপ আছি বা আমার যা কিছু খারাপ হচ্ছে তার জন্য দায়ী অন্যরা---যারা ঠিক আমার মতো নয়, ভিন্ন ধর্ম/ ভিন্ন ভাষা/ ভিন্ন জাতি/ ভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ। এই 'বহিরাগত' কিংবা 'ভিন্ন'-র ধারণা কখনও ভাষা, কখনও জাতি, কখনও ধর্মকে ঘিরে আবর্তিত হয়ে চলেছে। বার বার মনে করানো হয়েছে এবং হচ্ছে, আমার যেগুলো পাওয়ার কথা ছিল সেগুলো পাচ্ছি না, যার মূল কারণটাই হলো এই 'বহিরাগত' কিংবা 'ভিন্ন'-দের উপস্থিতি। এই ধারণা নতুন কিছু নয়, আমরা অতীতে দেখেছি, জার্মানিতে হিটলারের মতো একনায়কের উদ্ভবও এই ধারণাকে ভিত্তি করেই হয়েছিল। এই ধারণা বর্তমানেও অত্যন্ত সচেতনভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
আমাদের এই যূথবদ্ধ আত্মকেন্দ্রিক স্বার্থপরতা ও হিংস্রতার চাষাবাদ হয়তো আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা আর আমাদের এই রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যেও অনেকাংশে নিহিত।
এই করোনা-ভাইরাস সংক্রমণ দেখিয়ে দিল, মানুষের হাতে তৈরি রাষ্ট্রের লৌহদৃঢ় সীমান্ত কিছুই নয়! একের পর এক রাষ্ট্রের নিশ্ছিদ্র সীমান্ত তছনছ করে, ভৌগলিক দূরত্ব ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে, ধনতন্ত্রের যাবতীয় গর্ব ধূলিস্যাৎ করে দিয়ে এই ভাইরাসের সংক্রমণ অশ্বমেধ যজ্ঞের ঘোড়ার মতোই অপ্রতিরোধ্য প্রমাণ করলো নিজেকে! দেখিয়ে দিল, ধনতন্ত্রের শিখর ছোঁয়া মহাপরাক্রমশালী রাষ্ট্র নায়ককেও বিশেষ পরিস্থিতিতে হাত পাততে হয় তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশের কাছে! একাকার হয়ে গেল উন্নত, উন্নয়নশীল আর অনুন্নতর ভেদ-রেখা! এই ভাইরাস এটাও হয়তো শিখিয়ে গেল, আমাদের স্বার্থপর-আত্মকেন্দ্রিক যাপন আর আগ্রাসী ধনতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদ দিয়ে বিপর্যয়কে রোখা যায় না! বিপর্যয়কে রুখতে গেলে লাগে যৌথভাবে বাঁচতে শেখা! আর একটু সামাজিক হয়ে ওঠা! অন্যের প্রতি সংবেদনশীল হয়ে ওঠা। জরুরি, বৈষম্যকে দূর করে সমাজের পিছিয়ে থাকা অংশকেও টেনে তোলা! আজ যখন শিক্ষিত উচ্চ ও মধ্যবিত্তের আর্তনাদ শুনি, 'বস্তির লোকগুলো কিছু মানছে না', 'ঘরে থাকছে না ওরা', 'ওরাই ছড়িয়ে দেবে সংক্রমণ'---তখন মনে পড়ে যায় সেই অমোঘ উচ্চারণ, 'যারে তুমি নীচে ফেল সে তোমারে বাঁধিবে যে নীচে/ পশ্চাতে রেখেছ যারে সে তোমারে পশ্চাতে টানিছে'।
আমরা নিচের তলার এই মানুষদের শিক্ষার অধিকার নিয়ে কথা বলিনি, তাঁদের স্বাস্থ্যের অধিকার নিয়ে কথা বলিনি, তাঁদের আত্মসম্মানের
সঙ্গে বাঁচার অধিকার নিয়ে কথা বলিনি। আজ
আমরা আতঙ্কিত এই 'সংক্রমণ-প্রবণ' মানুষদের নিয়ে! এ আমাদেরই নির্লিপ্ততা, উদাসীনতা আর হিরন্ময় নীরবতার অবধারিত পরিণতি! এই ভাইরাস হয়তো এই শিক্ষাও দিয়ে গেল! এর সঙ্গে হয়তো এই সাবধান-বাণীও, রাষ্ট্রের কর্ণধারদের সামনে এবার জোরালো কন্ঠে এই দাবি উঠুক, পরিবেশ ধ্বংস করে 'কর্পোরেটের উন্নয়ন' আর প্রতিবেশীর সঙ্গে শক্তির আস্ফালনের জন্য প্রতিরক্ষা বাজেটের থেকে ঢের জরুরি দেশের মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং জীবন যাপনের মানোন্নয়নে খরচ!
আমাদের সাধারণ মানুষের ভোটে নির্বাচিত আমাদেরই সরকার দেখিয়ে দিল, কতখানি অমানবিক, কতখানি নির্লিপ্ত, কতখানি উদাসীন, কতখানি প্রতিহিংসা পরায়ণ, কতখানি হিংস্র হওয়া যায় নিজের দেশবাসীর ওপর! সরকারকে বিভিন্ন মহল থেকে, বিশেষজ্ঞ থেকে বিরোধী দলনেতা, পর্যাপ্ত সাবধানবাণী থাকা সত্ত্বেও সরকার বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় স্ক্রিনিং-এর কোনো ব্যবস্থা করেনি, সংক্রমণ ঘটে যাওয়া দেশ থেকে আসা বিমানযাত্রীদের কোয়্যারান্টাইন কিংবা আইসোলেশন-এ পাঠানোর কোনো ব্যবস্থা করেনি। সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করলো তখন, যখন করোনার সংক্রমণ চিন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনামের সীমানা পেরিয়ে পুরো ইওরোপে ছড়িয়ে পড়লো, আক্রান্ত হলো আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র।
কী ব্যবস্থা নিল আমাদের সরকার?
পূর্ব কোনো ঘোষণা ছাড়াই মাত্র কয়েক ঘন্টার নোটিশে পুরো দেশে সর্বাত্মক 'লক ডাউন'! সব জানা সত্ত্বেও সরকারের এই নির্লিপ্ততা, এই বিলম্ব এবং একেবারে শেষ মুহূর্তে এই আকস্মিক তৎপরতার ব্যাখ্যা চূড়ান্ত অযোগ্যতা ছাড়া আর কী-ই বা হতে পারে!
শুধু তাই নয়, এই বিপর্যয়ের সময় আমরা উত্তরপ্রদেশে দেখলাম দিল্লি ও হরিয়ানা থেকে হেঁটে বাড়ি ফিরতে থাকা অসংগঠিত শ্রমিকদের ওপর 'ক্লোরিন-জল' দিয়ে হোস পাইপে 'স্যানিটাইজ' করার মতো হাস্যকর এবং অমানবিক পদক্ষেপ! কোনো সভ্য দেশে এমন নিদানের কথা ভাবা যায় না!
এই বিপর্যয়ের সময়েও কৌশলে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতাকে নানাভাবে উসকে দেওয়ার দুরভিসন্ধি সরকার পক্ষের নানা বক্তব্যের মধ্যে, আচরণের মধ্যে বার বার স্পষ্ট হয়ে উঠছে! করোনা-আক্রান্তকে চিহ্নিত করা হচ্ছে ধর্মের ভিত্তিতে! কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য দপ্তরের মুখপাত্র, বলছেন, একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের জমায়েত থেকেই তিরিশ শতাংশ সংক্রমণ! এতটা নিশ্চিত কীভাবে হতে পারলেন? বাকি সত্তর শতাংশ সংক্রমণের উৎসও তাহলে বলা হোক্! করোনা ভাইরাসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রাষ্ট্রের মদতে 'ধর্মীয় ভাইরাস'-এর সংক্রমণ হয়েই চলেছে!
এ-রাজ্যেও আতঙ্কগ্রস্ত বন্দিদের ওপর গুলি চললো দমদম সেন্ট্রাল জেলে। পাঁচ জন নিহত হলেন, আহত বহু বন্দি!
এগুলোই কি আমাদের দেশের কেন্দ্রীয় আর রাজ্য সরকারগুলোর বিপর্যয়কালে মানুষের প্রতি মানবিক আচরণ! এঁরাই বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসেন!
আমরা যদি এই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে প্রয়োজনীয় শিক্ষাগুলো নিতে পারি, তাহলে হয়তো আর একটু ভালোভাবে, অন্যের সঙ্গে মিলেমিশে, একটু সভ্য ভাবে বাঁচতে পারি। আগামী দিনে বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে আসন্ন অন্য আরও অনেক বিপর্যয়ের দিনগুলোকেও যৌথভাবে সামলে নিতে পারি!