অস্থি-শল্য চিকিৎসক ভাস্কর দাসের অস্থি - মজ্জায় ভ্রমণ। নিছক ভ্রমণ, যা আমরা করে থাকি, সেই ভ্রমণ নয়, সেই পর্যটন নয়। এ ভ্রমণ মানব - ভ্রমণ, প্রকৃতি - ভ্রমণ, ইতিহাস - ভ্রমণ, ভূগোল - ভ্রমণ, বিজ্ঞান, গণিত সর্ব বিষয়ের ভ্রমণ। সেই ভ্রমণের ইতিবৃত্তকে ফটোগ্রাফি সহ মলাট বন্দী করা, অনেক লেখক করে থাকেন, ভাস্কর তাঁদের থেকে কয়েক মাত্রা ওপরে। তার মলাট বন্দী বাক্যছন্দ সাহিত্য শৈলীতে ভরপুর। গরমভাতে মাখন দিলে তার সুগন্ধ যেমন ক্ষুধার উদ্রেককে দ্বিগুণ করে তোলে, ভাস্করের ভাষা, শব্দচয়ন, রচনাশৈলী ঝরঝরে মাখনমাখা ভাতের মত। গপ গপ করে খেতে হয়। স্থিরচিত্র ফেভিকল, দৃষ্টি আটকে থাকে।
ইউরোপ ভ্রমণের পর্বই বেশি। তবে আইসল্যান্ড, রেকিয়াভিক, মালমো, কিরুনা ভ্রমণের পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা থেকে অল্প পরিমাণে আমরা হয়তো বঞ্চিত হয়েছি। তবে যতটুকু পাই চেটেপুটে খাই। সঞ্চিত ধন এতটুকু যাবে না ফেলা। সপরিবারে ইতালি ভ্রমণে আমরা রোম মিলান সিসিলি না পেলেও এতটুকু বঞ্চিত হই না।
ইতালিতে ভ্রমণকালে গর্ভবতী কিশোরী মেয়ের বদান্যতা ভ্রমণ সাহিত্যের মূল্যবান হিরে হয়ে গিয়েছে। আরও এক হিরের টুকরো ভাস্কর ছুঁড়ে দিয়েছে সত্যজিৎ রায়ের প্রথম পর্বের ধ্বংসপ্রাপ্ত রিলের উদ্ধারের ইতিহাস ভ্রমণের মধ্যে তুলে এনে। সোনার আংটিতে হিরে বসানো থাকলে হিরেটা হল বিদ্যে আর হিরে থেকে যে আলো ছিটকে বেরোয় তা হল কালচার। ভাস্কর তখন অমিট রে হয়ে যায়।
গীর্জার নির্মাণ প্রণালী, গীর্জার ইতিহাস, স্থানিক ইতিহাস ও তার ভৌগোলিক অবস্থান এবং জিওলজিক্যাল সায়েন্স নিয়ে ভাস্করের যে অনুসন্ধিৎসা ও বিশ্লেষণ, তা আমাকে অবাক করে দিয়েছে। সেইসঙ্গে আর্কিটেকচারাল বিদ্যা, গণিত-বিদ্যা, মানব-ইতিহাস (anthropology), কি নেই ভাস্করের লেখার মধ্যে! অস্থিশল্য চিকিৎসক হিসেবে ভাস্করের যা খ্যাতি, তার থেকে অনেক বেশি খ্যাতির অধিকারি হওয়া উচিত ছিল ভাস্করের।
