বাবা এক দেশহারা কলোনির মজদুর!
পাতায় তামাক দিয়ে বিড়ি পাকিয়ে রেখে দিত
কুলোয়,
মা চাকু দিয়ে মুখ মুড়ত শুধু বিড়ির।
বিড়ি চলে যেত মালিকের ঘরে।
আসত ফের নতুন পাতা, তামাক...
সন্ধেয় মজুরি। বাজার ক'রে বাবা ফিরত তাড়াতাড়ি।
বাবার থলেয় থাকত চাল-ডাল
আর একটি অদৃশ্য মন্ত্র---
দুনিয়ার মজদুর এক হও!
বাবা এক দেশহারা কলোনির মজদুর...
'দুনিয়া' শব্দে হাত মুঠো করত কথায় কথায়...
খুলনার মাটি আর ভৈরব নদী হারানোর বেদনা যেন মুছে দিতেন মার্কস, লেনিন।
বাজার নিয়ে বাবা বাড়ি ফিরলেই
আচমকা পড়ার সুর উঁচুতে উঠে যেত আমাদের।
চাপা একটা আনন্দ!
একটু পরেই মা'র উনুন, হাঁড়ি-কড়া থেকে
ভেসে আসবে ভাতের গন্ধ...
ডিমের গন্ধ...
বাবা এক দেশহারা কলোনির মজদুর!
আমাদের প্রতিদিনই একরকম।
শুধু বছরে একদিন সন্ধেবেলা বাবা বাড়ি ফিরে মাকে বলত, 'কমরেড!'
আমাদের বলত, 'কমরেড!'
মায়ের উনুন ঘিরে আমরা সকলে গাইতাম--- ওরা আমাদের গান গাইতে দেয় না...
এটাও গাইতাম--- উই শ্যাল ওভারকাম...
বাবা কমরেড,
মা কমরেড,
আর আমরা বাচ্চাকাচ্চারা পিট সিগার,
হেমাঙ্গ বিশ্বাস
----- এরকম একটা দিন বিশ্বাস হচ্ছে তো?
হ্যাঁ,
পয়লা মে এক বিশ্বাসের নাম!
আজ বিড়ি ধরাতেই মে-দিনের ম্যাজিকটা মনে পড়ল----
পাশাপাশি বাবা-মা...ভাত ফুটছে...
আগুনের আলোয় বাবার চোখে যেন চকচক করছে স্বপ্ন...
আর মাটির উনুনে গাছের শুকনো পাতা, মরা ডাল গুঁজে দিতে দিতে
লাজুক গলায় মা বলছে, 'দুনিয়ার মজদুর এক হও!'
কাঁদছি না, ঠোঁটের বিড়ি বলল,"এক লাজুক
ভাতের দানার নাম মে দিবস..."