একদিন ভোর রাতে ,
সুরসাধক বীণা হাতে,
ধরেছেন রাগ ভৈরবী;
সুর, তান অক্লেশ,
রোজকার অভ্যেস ,
করুণা বিগলিত জাহ্নবী .
বীণা তারে টঙ্কার,
বাজে সুরঝংকার,
কলতানে মুখরিত গীত ;
ঈশ্বরের জয়গানে,
তরঙ্গে তরঙ্গ টানে,
সূর্যের আগমনী সঙ্গীত.
গান তাঁর হলে শেষ,
কাটেনি সুরের রেশ,
বয়োভারে তনুমন ক্লিষ্ট ;
অদূরে দেখেন চেয়ে,
বালক এক দাঁড়িয়ে,
সুরমূর্চ্ছনায় আবিষ্ট.
করজোড়ে নিশ্চুপ,
অপলক, অপরূপ,
দেবশিশু দুই চোখে স্বপ্ন ;
যার প্রতীক্ষায় দিন,
কাটছিলো হয়ে লীন,
পেয়েছেন খুঁজে সেই রত্ন.
এই মতো ভেবে শেষে,
দুই পা উঠে এসে,
সম্মুখে দাঁড়ালেন ঠায়;
হেসে শুধোলেন তারে,
এসেছো যে চুপিসারে,
কি তোমার নাম, পরিচয় ?
সুরসুধায় অনুরক্ত,
আঁখিপাতে অতিরিক্ত,
অশ্রুফোঁটা নামে গাল বাহি;
দুই পায়ে মাথা কুটে,
কহিল সে অস্ফুটে,
আমি তব ভক্ত,গুনগ্রাহী !
সুর,তাল,লয় আছে,
শিখবে যা মোর কাছে,
কখনো কাউকে শেখাবে না;
সাধক কহিলেন- তবে,
গুরু যদি মোরে কবে,
এই হবে গুরুদক্ষিণা.
বালক কহিল - " বেশ !
তাই হোক শেষমেশ,
জুড়োক মনের সব ব্যাথা;
সাধনায় যদি মন,
বন্ধ সব আলাপন,
এই হোক তবে শেষ কথা.