নীলাঞ্জনা তোমাকে

রৌদ্রকরোজ্জ্বল এক
সফেন দুপুরে
নীল আকাশের নিচে
সদ্য প্রস্ফুটিত
নীল পদ্মের মতন
নীল ফ্রক এ
সাদা ফিতেয় বাঁধা
মেঘবরণ চুল
দেখেছিলাম তোমার
নাম রেখেছিলাম -
নীলাঞ্জনা
শূন্যগর্ভ হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে
উঠে আসা চিরায়ত আর্তি
পল্লবিত কুসুমের সৌরভে
ম ম করে ওঠা অরণ্যে
পথ হারিয়েছিল -
চন্দন চর্চিত কপোলে
নবপরিণীতা বধূর মতন
মনে পড়ে - পড়ে না
সেসব দিনের কথা
বিলম্বিত লয়ে
সযত্নলালিত প্রেম
দানা বেঁধেছিল
কিরণমালার মতো করে
ধরা পড়েছিল
তোমার চকিত চাহনিতে
সুললিত ছন্দে
বেজে ওঠা রাগিনী তোমাকে
আঁতিপাতি করে খুঁজেছিল
সুরের বিশ্বরূপে
 বুঝতে পারিনি আমি
কবে কোন আলপথ বেয়ে
বাসা বেঁধেছিলে তুমি
আমার স্মৃতির সরণিতে
এক পশলা বৃষ্টি এসে
কখন কেমন করে
ধুয়ে দিয়ে গিয়েছিল
প্রাণের পরশটুকু
দমকা হাওয়ায় অশরীরী আত্মার
মতন নিঃশব্দে
কখন হারিয়ে গেছ
জীবন সেকথা জানায়নি আমাকে
গোধূলিবেলায় যখন
কোমল কমলা সূর্য
একাকী সগর্বে তার
উপস্থিতি ঘোষণা করে
যেখানে সুনীল আসমানে
মিশেছে সবুজ বনানী
আর মিলেছে সবুজ সাগর
তার ফেনিল তরঙ্গের
উৎসস্থলে
সেইখানে তোমার সঙ্গে
আবার আমার দেখা হবে  
স্বপ্নিল , ফেনিল উজানে
আবার তোমার সঙ্গে কথা হবে
আবার তোমাকে লিখব চিঠি
সাগরপারের গোপন প্রিয়া
মহাশূন্যের ক্যানভাসে
নীলাঞ্জনা আজকে তোমাকে
বিভূতির সাদা চাদরে
ঢেকে দিলাম
বেদনার সুতোগুলো ছাড়িয়ে নিয়ে -
তুমি তার গন্ধ নিও