সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে

যখন কোনও সুখ, শান্তি ও সচ্ছলতায় ভরা সংসার চোখে পড়ে, তখন মনের অজান্তে একটাই কথা ভেসে ওঠে – “সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে”।  আরও  অনুভব করি যে, এই সুখের আড়ালে লুকিয়ে আছে কোনও এক রমণীর নিরলস সেবা, স্বার্থত্যাগ ও শুভ কর্মপ্রচেষ্টার কল্যাণ স্পর্শ। কথাটা আজকের দিনে অতিরঞ্জিত বলে মনে হলেও আগাগোড়া বাস্তব ও একশ ভাগ সত্যি। গুছিয়ে সংসার করাটা মেয়েদের মজ্জাগত অধিকার ও সহজাত গুণ।
সংসারের ধারনা, রূপ ও পরিধি যুগের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ক্রমশ বদলে গেছে, কিন্তু সংসারে নারীর ভূমিকা ও দায়দায়িত্ব আজও একটুকুও বদলায়নি। বরং উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। আজও সংসারের সুখের চাবিটা নারীর আঁচলেই বাঁধা।
আধুনিক জীবনে “স্বামী, স্ত্রী ও সন্তান”  নিয়ে সুখের সংসারের আড়ালে অনেক দীর্ঘশ্বাস ও অ-সুখ জমা থাকে। তাই নানা ব্যভিচার ও স্বেচ্ছাচারের চোরাপথে ডিভোর্স, বধূ নির্যাতন বা অশান্তির  কালো মেঘ ঘনিয়ে আসে। অসুখী রমণীটি বিদ্রোহ করলে সংসারে আগুন জ্বলে ওঠে। এছাড়া আধুনিক ব্যক্তিকেন্দ্রিক ভোগবাদী জীবনে স্বার্থপরতা, মানসিক দ্বন্দ্ব ও নারী-পুরুষের প্রকৃতিগত সাম্যের অভাবও সংঘাতকে ত্বরান্বিত করে। সন্তানের বাবা-মায়েরা শঙ্কিত হয়ে ওঠেন। অনেক সংসারে সুখের আগুন দাবানল হয়ে জ্বলে ওঠে। যার বেশীর ভাগ খবরই অজানা থেকে যায়।
সুখে সংসার করাটা কোনও অলৌকিক ব্যাপার নয়। সুখ আছে আপনার আমার আসে পাশেই। চাইলেই তাকে ধরা যায়। আপনি, আমি ও  আমরা সকলেই তাকে পেতে পারি। সেজন্যে চাই – একটু ভালবাসা, বিশ্বাস ও ধৈর্য। জ্যোতিষশাস্ত্র নারী-পুরুষের অন্তর্নিহিত প্রকৃতিগত সাম্যকে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত বলে নিদান দেয়, যা বিবাহিত জীবনের পক্ষে অন্যতম বিষয় বলে মনে করে। এখানেই যোটক বিচারের সার্থকতা। জ্যোতিষ মতে এক একটি রাশির প্রকৃতি এক এক রকম। ফলে প্রতিটি জাতক-জাতিকা ভিন্ন ধরনের প্রকৃতি নিয়ে জন্মায়। নারী-পুরুষের প্রকৃতি যখন পরস্পরের পরিপূরক হয়, তখন তারা সুখে  ঘর সংসার করে। শত বাধা-বিঘ্ন, ঝড়-ঝাপটা-ঝামেলা-ঝঞ্ঝাট, শারীরিক বিপর্যয় বা আর্থিক বিপত্তি তা টলাতে পারেনা। সংসার সুখের আলোয় ঝলমল করে। অন্য দিকে নারী-পুরুষের প্রকৃতিগত সাম্যের অভাব বা অমিল থাকলে – সংসার জীবনে ঝগড়া, অশান্তি, মনান্তর, মতান্তর ও সংঘাত লেগেই থাকে। যার অনিবার্য পরিণাম ডিভোর্স অথবা মানসিক বিচ্ছেদ।
বিবাহিত জীবনে রাশি-গত মিল থাকাটা খুবই জরুরী। সাধারণত মেষ, সিংহ ও ধনু (অগ্নি রাশি)পরস্পর মিত্র, বৃষ, কন্যা ও মকর (পৃথ্বী রাশি), মিথুন, তুলা ও কুম্ভ (বায়ু রাশি), কর্কট, বৃশ্চিক ও মীন (জলরাশি) পরস্পর মিত্র এবং একে অন্যের পরিপূরক প্রকৃতির। ফলে  সহজেই পরস্পরের মধ্যে বোঝাপড়া গড়ে ওঠে, মন-মেজাজ ও মানসিকতার মিল থাকে এবং পরস্পরের মূল্যবোধ ও  জীবনদর্শন একই ধরনের হয়। ফলত বিবাহিত জীবন সুখের হয়।   
রাশি গত মিল থাকলে বিবাহিত জীবনে কেমন ফলাফল হতে পারে বা কোন রাশির প্রকৃতি কেমন, তা জানা থাকলে বিবাহিত জীবনে পারস্পরিক বোঝাপড়া গড়ে তোলা অনেক সহজ হয়, সংসার সুখের হয়। সেকারণে কোন রাশির প্রকৃতি কেমন তা সংক্ষেপে তুলে ধরলাম।