১) যাদের নিজস্ব জমি আছে বা জমি কেনার সামর্থ্য আছে, তারা নিজেরাই পরিকল্পনা করে বাস্তু মতে বাড়ি করুন।
২) যাদের জমি আছে অথচ অনেক ভাইবোন বা বহু শরিক, তারা আপোষ মীমাংসার মাধ্যমে নিজেরাই যৌথ বহুতল বাড়ি বানান। এর ফলে অর্থ, সময় ও ঝামেলা কম হবে। স্বাধীন ভাবে বসবাস ও ছাদ ব্যবহার করতে পারবেন।
৩) জমি কিনে বাড়ি করার আগে সতর্ক হোন। সস্তায় জমি পেয়ে উল্লসিত হবেন না। কেনার আগে জমির চরিত্র জানুন। পরিত্যক্ত শ্মশান, মন্দির, কবর, ভাগার, সমাধিস্থল, পশু খামার এবং বদ্ধ ভূমিতে কখনই বাড়ি করবেন না।
৪) বড় ধরণের নির্মাণের ক্ষেত্রে (যেমন- বহুতল আবাসন, হোটেল, লজ, হাসপাতাল নার্সিংহোম, সভাঘর ও প্রেক্ষাগৃহ, আবাসিক বিদ্যালয়, কল কারখানা, বৃদ্ধাশ্রম, শপিং মল্ ইত্যাদি) বিশেষ করে লক্ষ্য রাখুন –
ক) এলাকাটি ভূকম্পন প্রবণ এলাকা কিনা ।
খ) সঠিক মাল-মশলা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করুন ।
গ) অভিজ্ঞ নির্মাণ সংস্থার পরামর্শ ও প্ল্যান অনুসারে পরিকাঠামো তৈরি করুন
ঘ) সব ধরণের আপদ কালীন অবস্থা মোকাবিলার জন্য সুরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ভাবে রাখুন ।
৫) আপনার বাড়ি ছোট, বড় বা মাঝারি যাই হোক না কেন, বাড়ির একটা সুন্দর নাম দিন। প্রবেশ পথে “নাম ফলক” লাগান।
৬) প্রতিটি ঘরে পর্যাপ্ত সূর্যের আলোর প্রবেশ, খোলা হাওয়ার চলাচল ও জল নিকাশির ব্যবস্থা রাখুন।
৭) ঘরগুলির ব্যবহারের ধরন অনুসারে বিভিন্ন ধরণের উজ্জ্বল রঙ ব্যবহার করুন। সাদা, হলুদ, কমলা, সবুজ ও আকাশী রঙ ব্যবহার করুন।
8) ফেং শ্যুই নামক আবর্জনায় ( যেমন-কচ্ছপ, ব্যাঙ, ক্রিস্টাল, আয়না, বনসাই, ক্যাকটাস, মানি প্ল্যান্ট ইত্যাদি ) ঘরদোর ভরিয়ে তুলবেন না।
৯) ছাদে, বারান্দায় ও খোলা জায়গায় মাটির টবে ভেষজ গাছ লাগান। যেমন- বাসক, তুলসী, পুদিনা, ঘৃতকুমারী, কালমেঘ, হলুদ, মেথি ও থানকুনি ইত্যাদি ।
১০) ফাঁকা জমিতে ও খোলা জায়গায় ফুল গাছ লাগান। যেমন- বেল, টগর, জুঁই, নয়ন তারা, রজনীগন্ধা, গাঁদা, জবা, করবী ও কৃষ্ণকলি ইত্যাদি। নিত্য পুজোর ফুল কিনতে হবে না।
১১) পড়ার ঘরে, বসার ঘরে, ঠাকুর ঘরে এবং অন্যান্য জায়গায় মাঙ্গলিক চিহ্ন (ঔঁ, স্বস্তিক, ত্রিশূল), ধর্মীয় বাণী, শ্লোক, প্রাকৃতিক দৃশ্য, প্রেরণা দায়ক কবিতা, উদ্ধৃতি,
বাণী, ও দেব-দেবীর ছবি ব্যবহার করুন।
১২) সাধারণ ছোট-খাটো বাড়ি বা ফ্ল্যাটে পশু-পাখি, জন্তু-জানোয়ার পুষবেন না।
১৩) কীট-পতঙ্গ, জীবাণু, ছত্রাক, শেওলা ইত্যাদির উপদ্রব কমাতে নিয়মিত ভেষজ কীটনাশক, সুগন্ধি তেল, চন্দন, ধূপ-ধূনা, কর্পূর, ইউক্যালিপটাস তেল ও আগরবাতি
ব্যবহার করুন।
১৪) আপনার বাড়ি বা ফ্ল্যাট যেমনই হোক ঠাকুর ঘর বা মন্দির যেন থাকে। একান্তই যদি জায়গার অভাব থাকে তাহলে কাঠের বা পাথরের সিংহাসন বা মন্দির বানিয়ে নিন।
১৫) সুন্দর বাড়ি করলেন, ঘটা করে গৃহপ্রবেশ করলেন তবুও কিন্তু আপনার কাজ শেয হল না। প্রতি চার-পাঁচ বছর অন্তর বাড়ি রঙ করা, মাঝে মধ্যে জলের পাইপ লাইন মেরামত, ছাদ, পাঁচিল ও কার্নিশের আগাছা নির্মূল করুন।
১৬) ইট-কাঠ-পাথরের তৈরি আপনার সাধের বাড়িটা (House) যথার্থ ঘর সংসার (Home) হয়ে ওঠে প্রাণের স্পন্দনে। অকারণ চিৎকার, অশান্তি ও অবহেলায় তাকে
কলুষিত হতে দেবেন না। বাড়িটাকে মন্দির ভাবুন এবং ঐকান্তিক চেষ্টা, মমতা ও ভালবাসা দিয়ে তাকে ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড় করে তুলুন। যেখানে দিনের শেষে পরম নিশ্চিন্তে ঘুমের দেশে পাড়ি দিতে পারেন।
বিঃদ্রঃ - গৃহসুখ ও পারিবারিক জীবন, বাড়ি/ফ্ল্যাট ইত্যাদি নির্ভর করে রাশিচক্রের চতুর্থ ভাবের শুভাশুভ অবস্থানের ওপর, রাশিচক্রে গৃহসুখ না থাকলে মানুষ রাজপ্রাসাদেও সুখ পায় না। সেক্ষেত্রে সমস্ত ধরণের ‘বাস্তু বিধান’ কসমেটিক সার্জারি হয়ে ওঠে মাত্র। আপনার রাশিচক্র বিচার করিয়ে জেনে নিন, আপনার গৃহসুখ কেমন হবে?