যুগ যুগ ধরে ভারতবর্ষের পশ্চিমবঙ্গের তরাই অঞ্চলের পাহাড়-পর্বত, নদ-নদী, জঙ্গলে বসবাসকারী জনজাতির মধ্যে ধিমাল জনজাতি আদিম জনজাতির মধ্যে অন্যতম জনগোষ্ঠী। এই তরাই অঞ্চলে বন্যপশু শিকার, মাছ ধরে, বনজ সম্পদ সংগ্রহ করে ঝুম চাষের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন করে জীবন ধারণ করত ধিমালরা।
উত্তরবঙ্গের তরাই অঞ্চল তখনকার দিনে ঘনঘোর জঙ্গলে ঘেরা স্যাঁতসেঁতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে, হাতি, সাপ, বাঘ, ভাল্লুক, ম্যালেরিয়া, কালাজ্বর কবলিত প্রবল ভয়ঙ্কর — এলাকায় মেচ ধিমাল জনজাতির মানুষরা বসবাস করত। তা দেখে ব্রিটিশরা আশ্চর্য্য হয়েছেন। ব্রিটিশ আগমনের পূর্বে এই অঞ্চল বিভিন্ন রাজার রাজত্ব ও ভূমি দখলের লড়াই ইতিহাস হয়ে আছে। মহানন্দা থেকে কনকাই পর্যন্ত তখনকার দিনের তরাই জঙ্গল পূর্ব মোরঙ্গ নামে পরিচিত ছিল। এর দৈর্ঘ্য ছিল ১৮ মাইল ও প্রস্থ ছিল ১৬ মাইল। কিরাত জনগোষ্ঠীর জনৈক কৌম মো রাং-এর নামে সমগ্র তরাই অঞ্চলের নাম মোরাঙ্গ নামে পরিচয় লাভ করে বলে শোনা যায়। মোরাঙ্গ সম্পর্কে বিদ্বানদের উল্লেখ আছে —
Morung — A name formerly applied to the Southern portion of the district from Mechi on the West to the Tista on the east which is now known as the Tarai. It was annexed from Sikkim in 1850 in consequence of seizure and detention of
Dr. Cambell, the superintendent of Darjeeling. Sir Joseph Hooker, came across this region while travelling through the Raja’s territories. At the time the upper portion of the tract, lying immediately at the base or the mountains, was chiefly covered with forest and jungle and was inhabited by one or two aboriginal tribes the Meches and Dhimals, who did not suffer from its unhealthy climate. The lower portion was more open and cleared, was principally cultivated with rice and chiefly inhabited by Koches or Rajbansis.
গবেষক সান্যালের মতে ধিমালরা সমতলের লিম্বু জনজাতি। — Dhimals are also called the Limbus of the Nepalese plains (Sanyal 1973)। ধিমাল জনগোষ্ঠী একটি অতি ক্ষুদ্র জনজাতি (Diminutive group)। এই জনজাতির অস্তিত্ব বৃহৎ উন্নত সংস্কৃতির চাপে সংকটাপন্ন। ভারতীয় ধিমাল হিসাবে ১০০৫ জন ধিমাল আজ দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ি মহকুমায় মেচি নদীর ধারে বসতি স্থাপন করে আছে।
ধিমাল জাতির উৎপত্তি ও আগমনের ইতিহাস —
জনশ্রুতি অনুসারে ইন্দ্রের রাজসভায় স্বর্গের বিদ্যাধরী পেরকোই ও নেরকই নামে দুই পরী নৃত্য পরিবেশন করছিলেন। ঢোলক বাদক ছিলো সাঁকু ও মাঁকু। নৃত্যরত অবস্থায় ঢোলক বাদকদের প্রতি পেরকোই ও নেরকোই আকৃষ্ট হওয়ায় তাদের নৃত্য তাল ভঙ্গ হতে থাকে। ফলে ইন্দ্রের কোপানলে পড়ে যায় তারা। ইন্দ্রের অভিশাপে মর্তে সাঁকু - সুকুনু, মাঁকু - দুঃখুনু আর কেরকোই - হীরা, নেরকোই - মোতি নামে জন্মগ্রহণ করে। যথাসময়ে তাদের বিবাহ হয়। হীরার সন্তানরা ধিমাল, মোতির সন্তানরা লিম্বু নামে পরিচিতি লাভ করে। হীরা মোতি জনশ্রুতির কথা জনশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে ধিমালরা বংশপরম্পরায় (জাউরা গেলাই) পূর্বপুরুষদের ও হীরা মোতি কোইনার পূজো দিয়ে আসছে।
আর এক জনশ্রুতিতে শোনা যায় ধিমাল ও লিম্বু জনজাতির মানুষ একই বাবা-মায়ের সন্তান। কাশী থেকে ফেরার পথে এক ভাই ক্লান্ত হয়ে রাস্তায় বিশ্রামের জন্য বসে পড়ে, আর এক ভাই খুকুরী দিয়ে কলা গাছ বা গামার গাছ কেটে কেটে এগোতে থাকে পাহাড়ের দিকে, জঙ্গলের রাস্তা ভুলে যেতে পারে তাই। বিশ্রাম শেষে উঠে ভাই দেখে কলা গাছের মাঝের অংশ অনেকটা বেরিয়ে গেছে, গামার গাছে কাটা অংশ কালো হয়ে গেছে। তাই সে ভাবলো এই জঙ্গলের রাস্তায় সে অনেক দূরে চলে গেছে। আর তাকে পাবে না। তাই সে সমতলে থেকে ধিমাল নামে পরিচিতি পেল। যে অনেক দূরে চলে গিয়েছিল সে হয়ে গেল কোচ মেচ, রাই লিম্বুদের ঘনিষ্ঠ সঙ্গীসাথী। আবার ধিমালরা বড় ভাই না লিম্বুরা বড় ভাই এ নিয়েও মতানৈক্য দেখা যায়। লিম্বুরা বলে ‘আমরা বড় ভাই — ধিমালরা আমাদের কান্থা অর্থাৎ ছোট ভাই।’ এ বিষয়ে পাত্র ধিমালের যুক্তি হল — ধিমালরা বড় কারণ এরা বয়স্ক হওয়ায় হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল, পাহাড়ে উঠতে পারেনি। ছোট ভাইয়ের গায়ে যৌবনের রক্ত তাই সে পাহাড়ে অনায়াসে উঠে গেছে। বয়স্ক দাদা পাহাড়ে উঠতে পারেনি। সমতলে থেকে গেছে।
ধিমাল ও লিম্বু জনজাতির মানুষদের মধ্যে সাংস্কৃতিক ঘনিষ্ঠতা দেখে মনে হয় আদিতে এই জনজাতি একই জনগোষ্ঠীর মানুষ। (১) দুই জাতির কোন মূর্তি পূজা হয় না। গৃহের মূল খুঁটির পূজার প্রচলন দুই জাতির মধ্যে বর্তমান। (২) ভাষাবিদরা ধিমাল এবং লিম্বু ভাষাকে একই স্থানে রেখেছেন। (৩) দুই জাতির বিবাহের পৌরাণিক নিয়ম অনুসারে বিবাহ বাসরের ছহরির চারকোণায় শূকরের চারটি কাটা পায়ের ফিলা ঝুলিয়ে রাখতে হবে। গান্ধর্ব মতে বিবাহে মেয়ের মতকেই বেশী গুরুত্ব দেওয়া। (৪) দুই জাতির মধ্যে ইয়াংইয়ং লেমাং মাখিম, জীং থর (পাত্র) বর্তমান। (৫) নৃতত্ত্ববিদদের মত অনুসারে ধিমাল লিম্বুরা মঙ্গল কিরাত শাখার অন্তর্ভূক্ত। (৬) বিবাহে দুই জাতির ১০ লিম্বুবান, ১০ কিরাত সংস্কার হিসাবে ১০ রীত সমাজকে বোঝানোর রীতরীতি বর্তমান। (৭) দুই জাতির মধ্যে দেশ রক্ষায় সেনা পরিচালনা করার জন্য রাজার কাছ থেকে প্রাপ্ত নাগরার নিশান ঘরে আজও বর্তমান। (৮) মৃত্যুসংস্কারে দুই জাতিই সকলের সম্মতিতে মৃতের আত্মাকে কাহিনী শুনিয়ে স্বর্গে পাঠানোর বিধান দেয়। উপরে উল্লেখিত সামাজিক সংস্কার থেকে সহজেই গবেষক সান্যালের মন্তব্য ধিমালরা যে সমতলের লিম্বু তা মেনে নেওয়া যায়।
আজও ধিমালদের ঘরে ঘরে দীপাবলীর সময় ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্র, কৃষিকাজের যন্ত্রপাতি কলাপাতার উপর রেখে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে সাদা, লালমাটি, ধূপধুনা, মোরগ, মদ উৎসর্গ করে পুজো দিয়ে থাকে। রাজাদের দেওয়া নাগরী তরোয়াল নেপালের ধাইজানের বাসিন্দা স্বর্গীয় নজর বজর ধিমালের বাড়ীতে ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে আজও পূজিত হয়। নাগরা নাগরী বিষয়ে এক অদ্ভুত কথা শোনা যায়। নাগরার চামড়া মহিলার চামড়া দিয়ে তৈরি। শোনা যায় জ্যান্ত মানুষের চামড়া ছিলে রাজারা নাকি নাগরা নাগরীর ছাউনী দিত। তাদের বিশ্বাস চামড়া ছিলার সময় মানুষটি ও গর্ভবতী মহিলাটি যত চিৎকার করবে নাগরা নাগরীর আওয়াজ তত জোরালো হবে। দেশে শত্রুর আগমন হলে নাগরা নাগরী আপনা থেকেই বেজে উঠবে। পরবর্তী সময়ে রাজার রাজত্ব না থাকায় নাগরা নাগরী অস্ত্রশস্ত্র পূজো করার ক্ষমতা আর ধিমাল সেনাপতির বংশধরদের না থাকায় তারা নেপালের এক নদীতে নাগরা নাগরী ও অস্ত্রশস্ত্র ডুবিয়ে দেয়। কোন ক্রমে নাগরী আর দুটি তরোয়াল ধিমালদের ঘরে থেকে যায়। তাই আজও ঐ নদীকে নাগরা ডুব্বা নদী বলা হয়ে থাকে।
ধিমাল লোকধর্মের সংস্কৃতি তুলসী দিবস থেকে জানা যায়— এই জনজাতির আগমন আনুমানিক খৃষ্টপূর্ব ১০০০ বর্ষের অনেক আগেই ভারতের উপমহাদেশের উত্তর এবং উত্তর-পূর্ব হিমালয়ের পাদদেশে। আর্যদের আগমনের পূর্বেই কিরাত জনগোষ্ঠীর বসবাস। তার একটি শাখার মধ্যে ছিল ধিমাল, কিরাত ইংবাকার ১০ জন ছেলের মধ্যে কনিষ্ঠ ছিল মাংদাবা। মাংদাবার জ্যেষ্ঠ ছেলে ধিকপ্পার ছেলেরাই ধিমাল বলে পরিচিতি লাভ করে।
আরো শোনা যায় হাজার খৃষ্টাব্দের পূর্বে মঙ্গল কিরাতের। সপ্তকোশি থেকে এসে বিভক্ত হয়ে একটি দল লিম্বুবানের দিকে আর একটি দল মধ্য কিরাত ভূমির দিকে আর একটি দল সমতলে এসে বসবাস শুরু করে এই সর্বশেষ শাখাটি হল ধিমাল।
কিরাত ঐতিহাসিক ইমানসিং চেমজুং-এর অনুসারে সাংলাং-এর পূর্বপুরুষরা কামরূপ থেকে এসেছিল। তাছাড়া, রাই, লিম্বু, ধিমালদের পূর্বপুরুষরাও হাজার বছর পূর্বে কামরূপ থেকেই এসেছিল। আবার সাংলাংকে লিম্বু বলা হয়। এই লিম্বু নাকি পাহাড়ের লিম্বু নয়। তরাই লিম্বু অর্থাৎ ধিমাল। ধিমাল ও লিম্বুরা কিরাত শাখার অন্তর্গত হওয়ায় কিরাত রাজার চৌতারিয়াকে যুদ্ধের হাতিয়ার জমা দিয়ে ছিল। সৈন্য পরিচালনার ভারও অর্পণ করা হয়েছিল। তাই তার ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে আজও তরোয়াল ও নাগরার নিশান ধিমাল ও লিম্বুদের মধ্যে বর্তমান। ইমানসিং চেমজুং-এর কিরাত সমকালীন বিজয়পুর ইতিহাসে জানা যায়, বিজয় নারায়ণের ঠাকুরদার নাম ছিল জারে — নেপালের কনকাই (মাই) নদীর পশ্চিমে বসবাসকারী ধিমালদের পরে ধিমাল বলা হয়। কনকাই নদীর পূর্বে বসবাসকারী নেপালের ধিমাল ও পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী ভারতীয় ধিমালদের পর্ব্বেলী ধিমাল বলা হয়।
এক সময় কনকাই (মাই) নদী থেকে পূর্ব মহানন্দা পর্যন্ত বিস্তৃত তরাইভূমি ধিমালী ভূমি বলে পরিচিত ছিল। বি. এইচ. হোসেন ও হ্যামিলটনের উক্তি হল —
“That tract of country lying Konki and Mahananda is still called Dhimali (Essay on Koch Bodo and Dhimal Tribes p.153)
They never would appear to have possessed the plain between the Kankoyi and Mahananda but they were lords of Lower hill, occupied by tribe called Dhimali” (An Account of the Kingdom of Nepal, P.119)
ইমান সিং চেমজুং-এর অনুসারে লোহাংসেন রাআহাং-এর সাহায্যে মহোত্তরী ও সপ্তরী গ্রাম ও মোরঙ্গ প্রদেশের পূর্বদিক শিলিগুড়ি মহানন্দা পর্যন্ত পৌঁছেছিল। সেই সময়ে সেখানে লেপচাদের শাসন চলছিল। তাদের রাজধানী ছিল দার্জিলিং-এর গিদ্দে পাহাড়ে (History and Culture of Kirat people. p-164)। লিম্বুবান রাজ্যের উত্তরের ভূভাগ তমর, বাড়রোক, পাঁচথর, ইলাম, ফাকফোক ও দার্জিলিং শিলিগুড়িতে বসবাসকারী ধিমাল মেচরা সিকিমের অধীনে এল।
ডুয়ার্স ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পূর্বেই শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি অঞ্চলে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীদের ২২টি পদবী ভুটান রাজা প্রদান করেছেন। তহশীলদারের কাজ করা ধিমালরা পায় মল্লিক পদবী। সেই থেকেই নাকি ধিমা্লরা নিজস্ব ধিমাল পদবী ছেড়ে মল্লিক পদবী আঁকড়ে ধরে। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ধিমাল গবেষক বিশ্বজিৎ রায় তাঁর এম. ফিল ডিগ্রির উপস্থাপিত গবেষণা অভিসন্দর্ভে লিখেছেন — তরাই ও ডুয়ার্সের অঞ্চলে যেহেতু রাজবংশী, মেচ, ধিমালদের মধ্যে মল্লিক উপাধি ছিল, হয়ত এর থেকেই ধিমালরা ধীরে ধীরে মল্লিক পদবী গ্রহণ করে। আবার কিছু কিছু ধিমালদের মুখে শোনা যায় পশ্চিমঘাঁটি ধিমালদের পদবী মল্লিক হয়েছে বলা হয়। আবার রিজলে সাহেব ধিমালদের মৌলিক বলে উল্লেখ করেছেন — তিনি আরো বলেছেন ধিমালদের পূর্বপুরুষরা নাকি জনজাতির পদবী ধিমাল পছন্দ করছিল না। তাই তারা আধুনিক পদবী মৌলিক গ্রহণ করেছেন।
Already, indeed, they affect a dislike for the tribal name Dhimal, which is now used only by outsiders, and prefer to call themselves by the modern title of Mullick.
আবার শোনা যায়, মল্লিক পদবীধারী তহশিলদারদের হাতে অনেক ক্ষমতা ছিল। তারা প্রজাদের খাজনা আদায়, অপরাধীদের বিচার করত, শাস্তি বিধান দিতে পারত। ধিমালদের মধ্যে যারা তহশিলদার হতে পারত না সেই ছেলেদের বলা হত গাবুর। এই পদবী ধিমালদের মধ্যে বর্তমানে না থাকলেও, জোত জায়গায় গাবুর শব্দটি পাওয়া যায় যেমন ধিমালদের বসবাস ক্ষেত্রের নাম লেটু গাবুর। ধিমালদের শিকারের জঙ্গল গাবুর বসরা জঙ্গল। ধিমালরা গাছকে বলে সিং। গাছ পূজা থেকে ধিমালদের নামে সিং ঢুকে গেছে। যেমন আমার ঠাকুরদাদার নাম ছিল জবর সিং মল্লিক। অনুরূপভাবে পাওয়া যায় অমলসিং মল্লিক, কুবীরুসিং মল্লিক, ধুমসিং মল্লিক।
বর্তমানে কিছু ধিমাল লেখাপড়া করার দৌলতে সচেতন হওয়ায় বুঝতে পেরেছে, নিজস্ব জাতির ধিমাল পদবী ছেড়ে মল্লিক পদবী নেওয়া কত ভুল হয়েছে। ধিমালরা নিজের ভাষা সংস্কৃতি আঁকড়ে ধিমাল হিসাবে আজ বাঁচতে চায়। ধিমালরা যে অনার্য তা তাদের সামাজিক ব্যবস্থায় আর্যদের থেকে পৃথক দেখাতে গিয়ে হান্টার সাহেব বলেছেন —
Living as the Bodos and Dhimals have for ages in the condition of subjects to foreign governments, it need hardly be observed that they have no public laws or polity what ever nor even any traces of that village economy, which so pre-eminently distinguishes Indo-Aryan culture. Hooker : তার Himalayan Journal Vol-1 -এ লিখেছেন — Described as squalid unhealthy people, typical of the region they inhabit but who are in reality more robust them Europeans in India. They are mild inoffensive, industrious for oriental living by serving the terai jungles and cultivating the clear spots. The Koch were superior in cultivation to the highlander Bodo and Dhimal.
ধিমাল জনগোষ্ঠীর মানুষ তরাই অঞ্চলের গভীর জঙ্গলে বসবাস করত এবং নিজস্ব পদ্ধতিতে গাছ-গাছড়ার শিকড়, পাতার রস থেকে ঔষধ তৈরী করে রোগের চিকিৎসা করত। আজও সেই ধারা অব্যাহত। আজকের যুগেও ধিমাল সমাজে রুঞ্চে মল্লিক, দেরু মল্লিক, দীনবন্ধু মল্লিক, রূপলাল মল্লিক, বিকাশ মল্লিক জলপড়া, তেলপড়া, গাছ-গাছড়ার শিকড়, পাতার রস দিয়ে ঔষধ তৈরী করে চিকিৎসা করে চলেছে। এখনও অসুখ বিসুখ করলে সহজে হাসপাতালমুখী হয় না। কুসংস্কার থেকে ধিমালরা আজও মুক্ত নয়।
ধিমালরা আদতে নিজস্ব জীবনশৈলীতে বাঁচতে ভালোবাসে। এখনও ধিমালরা স্বাধীনভাবে বাঁচতে চায়। ধিমালদের সম্পর্কে Waddel বলেন —
Even to such unhealthy place as these (terai) the few wild aboriginals — the Mechi and the Dhimal who live in the depth of these (terai) forests and who will undertake no hired service, have acquired almost as much immunity from the deadly fever of these forests as the tigers and other wild beasts.
ধিমাল এবং আসামের ধিমাসা জাতির নৃতাত্ত্বিক ও চারিত্রিক বিচারে সাদৃশ্য পাওয়া যায়। মৎস্য শিকারে উভয় জাতির প্রীতিতে অনুমান হয় এরা অতীতে একই জাতি ছিল। এই জাতির মানুষ উত্তরপূর্ব আসাম হয়ে ধানসারী নদীর ধারে বসবাস শুরু করে। পরবর্তীতে ডুয়ার্স তরাই অঞ্চল হয়ে মেচি, চেঙ্গা নদীর ধারে ভারতীয় ভূখণ্ডে বসবাস শুরু করে।
এতদ অঞ্চলে ধিমালরা ২০০/৩০০ বছর ধরে বংশ পরম্পরায় ঘাত প্রতিঘাত সহ্য করে বসবাস করে আসছে। ঐতিহাসিকদের সূত্র থেকে ধিমালদের ১৫০ বছর ধরে এই অঞ্চলে বসবাসের প্রমাণ পাওয়া যায়।
দার্জিলিং ইতিহাস গ্রন্থে ১৮৮০ খ্রীষ্টাব্দে হরিমোহন সান্যালের লেখাতে ধিমালদের উল্লেখ পাওয়া যায়। আবার ১৮৮০ খ্রীষ্টাব্দে বাঙ্গালির উৎপত্তি বিষয়ে বঙ্গদর্শনে প্রবন্ধ লিখতে গিয়ে বঙ্কিমচন্দ্র লিখছেন, আসামের ব্রহ্মপুত্র তীরে দেখতে পাই, কাছারি বা বোড়ো, মেচ ও ধিমাল জাতি এবং বাংলার মধ্যে তাদের নিকট কুটুম্ব কোচ জাতি।
১৮৪৭ সালে মেজর ব্রায়ান. এইচ. হজসন, ১৫০০০ ধিমালদের খোঁজ দেন। তিনি এশিয়াটিক সোসাইটির জার্নালে বলেন —
The Dhimals, whose numbers do not now exceed 15000 souls are at present confined to that portion of the Sal forest lying between the Konki and Dhorla mixed with the Bodo, but in separate villages and without inter-marriages.
১৮৪৯ সালে হজসন সাহেব লিখেছেন — ধিমালরা ধরলা বা তোর্সা নদী থেকে নেপালের কনকাই পর্যন্ত এলাকায় ছড়িয়ে আছে। আবার টোটোদের আদি ইকোসিস্টেম ও তোর্সা নদী অঞ্চলে অনেক দিন ধরে বাস। শোনা যায় টোটোরা সামাজিক বয়কটের ফলে বৃহৎ জাতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ১৮১৫ খ্রীষ্টাব্দে কৃষ্ণকান্ত বসু ভুটান সফরের সময় প্রশ্ন করেন — টোটোরা এত কম কেন ? তবে কি — টোটোরা কোন বড় জাতি থেকে বিচ্ছিন্ন শাখা নয়তো ? অতীতে এরা ধিমাল ছিল না তো ? ধিমাল ভাষার সঙ্গে টোটো ভাষার অনেক মিল পাওয়া যায়।
১৭৭০ খ্রীষ্টাব্দে সিকিমের রাজা ফুনছো নামগিয়াল এই অঞ্চল সিকিমের অধিকারে আনলেও পশ্চিম মোরাঙ্গ ১৭৭৪ খ্রীষ্টাব্দে গোর্খা মহারাজ পৃথ্বী নারায়ণ সিকিমের হাত থেকে ছিনিয়ে নেয়। পূর্ব মোরাঙ্গ ১৮৫০ খ্রীষ্টাব্দে পর্যন্ত সিকিমের অধিকারে ছিল। আবার ১৮৫০ খ্রীষ্টাব্দে কোম্পানী তরাই আক্রমণ করলে অরণ্যচারী ধিমালদের অরণ্যের অধিকার ঝুমচাষ কেড়ে নেওয়া হয়। এখন ধিমালছাট্ জোত, হাঁসখুয়া ধিমালদের পাওয়া যায় না। নেপালে চলে যাওয়া মাহালিয়া ধিমালের বাবার নামের জোত জমি ধিমাল বস্তিতে বেদখল হয়ে গেছে। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষ তাদের ১৫০ বিঘা জমি চোরা পথে পাক্কা কাগজ বানিয়ে ভোগদখল করছে।
১৮৭৬ সালে হান্টার সাহেব ‘স্ট্যাটিস্টিক্যাল একাউন্টস অফ বেঙ্গল’ গ্রন্থে ধিমাল ও মেচরা বৃহৎ কাছারি জাতির পশ্চিম শাখা হিসাবে উল্লেখ করেছেন। তার আগে ১৮৭২ সালে ডালটন ‘ডেসক্রিপটিভ ইথনোলজি অফ বেঙ্গল’-এ লিখেছেন —
Hodson describes the Bodo and Dhimal tribes as of the same race and there appears no reason for separating them in a work of this nature, as their customs religion & etc. appear nearly identical;
উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃতত্ত্বের অধ্যাপক সুবীর বিশ্বাস তাঁর Demographic Profile and Population Dynamics of the Dhimals A forgotten Ethnic group of North Bengal লিখেছেন — The Dhimal on O.B.C. is solely concentrated on northern part of West Bengal particularly in Darjeeling district, though majority of Dhimal is confined in
eastern part of Nepal. The two groups have frequent marital relation and thus from single biological population. However, in pre-independence period Dhimals were identified as Tribes, Aboriginal tribes, non-Aryan and so on by eminent scholars and Government census. After independence, censuses seem to lose trace of one non-Aryan aboriginal tribe of North Bengal. However, after along struggle Dhimals
recently find themselves in the list of O.B.C. of West Bengal, though they are not
satisfied with present status as they have demanded for scheduled tribe status from the very beginning.
ধিমাল জনজাতি ভারতের আদিম জনজাতি হওয়া সত্ত্বেও জনজাতি স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হয়ে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়েছে। সরকারী কর্মচারীদের ভুলের জন্য ১৯৪১ সালের সেন্সাস রিপোর্টে ধিমালদের মুছে ফেলা হয়েছে। তার খেসারৎ ধিমালদের কপালে জুটছে। আজও। তার জন্য দোষী কে ? ধিমালরা আজ মাতৃভূমিতেই ভূমি হারার অবস্থায় বঞ্চিত অবহেলিত হচ্ছে। চোখের সামনে বিদেশ থেকে আসা মানুষরা তপশিলী জাতির স্বীকৃতি প্রমাণপত্র বের করে সরকারী সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করে দিন যাপন করছে। ধিমালরা সংখ্যায় অতি নগণ্য তাই মন্ত্রী নেতানেত্রীরা ধিমাল জাতির প্রতি তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না।
ভারত স্বাধীন হওয়ার পরেও ভারতীয় গবেষকরা ধিমালরা যে জনজাতির মানুষ তা উল্লেখ করেছেন —
After Independence, the Indian scholars like Moitra (2001), Roy (1999), Deb Burman and Chaudhuri (1999) and Nepali scholars like Bista (1980), Goutam and Thapa
Magar (1994) and Ragni (1991) identified Dhimal as a tribe with characteristics of nomadic, shifting cultivation, traditional village council and so on.
নেপালের ধিমাল শিক্ষাবিদ পাত্র ধিমালের ভাষায় ধিমাল জনজাতির পূর্বপুরুষ মোঙ্গল কিরাতরা ককেশাস পাহাড় হয়ে চীন, বার্মা, কুশদেশ, বেবিলন, জলান্ধর ভারতবর্ষ হয়ে নেপালের তরাই ভূভাগে প্রবেশ করে। উত্তরের পাহাড়ে তিব্বতী অঞ্চলে অগ্রসর হয়। ইতিহাস অনুসারে কিছু মোঙ্গল কিরাত ৪০০০ ইঃ পূঃ চীনের হোয়াং হো ও ইয়াং সিকিয়ান নদীর ধারে রাজ্য স্থাপন করেছিল। সেখান থেকে উত্তর-পূর্ব ভারতে প্রবেশ ও পরে নেপালে প্রবেশ করেছে বলে বোঝা যায়। এইচ. গিলস-এর The History of Nation-এ উল্লেখ অনুসারে ঐ চীনিয়রা নিজের রাজধানী হোয়াংহো নদীর তীরে ১৬৯৩ ইঃপূঃ স্থাপিত করেছিলো বলে লিখেছেন। আবার তাই সয়াং বংশের লিম্বুরা পাতকোই পাহাড় অতিক্রম করে আসামে এলে কাছাড় হয়ে উত্তরবঙ্গ তারপর পূর্ব নেপাল (বর্তমান লিম্বুবান) এসেছিল বলে জানা যায়। আবার আসামের দক্ষিণ অংশ ও উত্তর-দক্ষিণ কাছাড় ভূভাগ কিরাত রাজ্য নামে পরিচিত ছিল। এই ভূভাগে ঢেপেরা নামক প্রাচীন জনজাতি বাস করত। কাছাড় ভূভাগ থেকে হিমালয়ের নীচে দুধকোশী, অরুণ নদীর মধ্যভাগ পর্যন্ত গিয়ে খম্বু, লিম্বু, য়াখা জাতির বসবাসের কথা স্যার এডওয়ার্ড গেইট লিখেছেন — তাই সাং বংশ লিম্বুদের এর চেয়ে বড় প্রমাণ পাওয়া গেল না কিন্তু তাইসাং বংশের ধিমালদের কথা পাওয়া যায়।
যখন তাইসাং বংশের অহমরাজা খুং লুং জীবিত ছিল সেই সময় নিজের সাতজন ছেলেকে পাতকোই পাহাড়ের ধারে ভিন্ন ভিন্ন রাজ্যের রাজা করেছিল। এই তাইসাং সম্প্রদায় চিণ্ডুবী নদী, বার্ম্মা ও পাতকোই পাহাড়ের মধ্যভূভাগে বহুবর্ষ বসবাসের কথা ইতিহাসে উল্লেখ আছে। এই তাইসান বংশই ধিমাল বলে ধরে নেওয়া হয়েছে। কারণ পাতকোই পাহাড় ইঃপূঃ ১৪০০ এর আগেই ডাংষ্কাওয়ারাং পাহাড় নামে পরিচিত ছিলো। আসাম দেশের বুরুঞ্জি পুস্তকের পৃষ্ঠা ১৩৯-এ এর উল্লেখ আছে। সুকাফা রাজার ১২২৯-১২৫৩ পর্যন্ত আসামে বিশাল রাজ্য ছিলো। সেইসময় পাতকোই পাহাড়ের নাম ছিলো ডাও-কাউ-বারাং। স্যার এডওয়ার্ড গেইট বলেছেন — He arrived at Daik orang — “A Collection of Nine hills”, where he stopped. এই পাহাড়ের নাম শক্তিশালী কোন ধিমাল বীরপুরুষের নামেই হয়েছিল। সেই প্রাচীনকাল থেকে আজও ধিমালরা এই পাহাড়কে ঈশ্বরজ্ঞানে বৈশাখ মাসে পূজো দিয়ে থাকে। এই পাহাড়ে ধিমালদের পূর্বপুরুষেরা বহু বছর বসবাস করেছিল। আসামের বহু পাহাড় রাজা মহারাজা মহাপুরুষের নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে। যেমন—হাবো পাহাড়, মহিবাং পাহাড়, বোডোরাজা মহিরং বা মহোরাং নাম অনুসারে আজও পরিচিত। অনুরূপভাবে ডাংষ্কাওয়ারাং পাহাড়ের নামকরণ হয়েছে।
ধিমাল জনজাতির মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই চীনবার্ম্মা হয়ে আসামকামরূপ রাজ্যে বসবাস করেছিলো। ধিমালদের দুটি নদী, হার ঢেকেরিয়া ও হাণ্ডিয়া থেকে এই অনুমান করা যায়। এই দুইটি নদী কামরূপে ছিল। আবার ধিমালরা নদীকে হাণ্ডিয়া বলে থাকে। এই শব্দগুলি কামরূপ রাজ্যে পাওয়া যায়। ঐতিহাসিক গেইট তাঁর A History of Assam পৃষ্ঠা ৪৮, ৯৫, ৯৬-এ এর বর্ণনা করেছেন। এই নামগুলি ধিমালদের মধ্যে থাকায় ধিমালরা কামরূপ থেকেই এসেছিল বলে প্রমাণিত হয়। বনবাসী ধিমাল জনজাতি ধিমালরা প্রাচীনকালে ঝুমচাষের মাধ্যমে তাদের প্রয়োজনীয় ফসল ফলাত। জঙ্গলে শিকার করত হরিণ, বাঘ, গুঁইসাপ, বন মুরগী, খরগোশ ইত্যাদি। শোনা যায় বন্য সব ধরনের পশুপাখী শিকার করে তার মাংস আগুনে পুড়িয়ে খেত ধিমালরা। শিকারের জন্য সঙ্গে থাকত শিকারী কুকুর। তীরধনুক, বল্লম, নানা ধরনের পশুপাখী ধরার ফাঁদ। হরিণ শিকার করে তার মাংস শুকিয়ে শুটকী করে সারা বছর সেই মাংস খেত। নদী থেকে মৎস শিকার করার সহজাত স্বভাব হওয়ায় নদীর ধারে জঙ্গলের পাশেই ধিমালরা ঘর বানিয়ে বসবাস করত। ঘরগুলি মাটি থেকে উঁচুতে মাঁচার উপরে ছিলো। একটা মোটা শালগাছের টুকরা খাপ কেটে সিঁড়ি তৈরী করা হত। ঘরে ছিল একটি দরজা-জানালা বলে কিছুই ছিল না। ঘরের দেওয়াল হত মাটি গোবর খড় মিশ্রিত মণ্ডের দ্বারা, আঁকা হত দেওয়ালে পাখী, হাতি, গাছপালা, ফুল, লতাপাতা ইত্যাদি। বন থেকে বনজ দ্রব্য, শিকার করা মাংস, বাড়ীর তৈরী ইউ (মদ) পান করে আনন্দে ধিমালদের দিন অতিবাহিত হত। পূজাপার্বন, ঢেরাদি পূজা, বিবাহ উৎসব হলেই ঢোল, উর্নী বাজিয়ে হৈহুল্লোড় করে ১০-১৫ দিন কাটিয়ে দিত।
ধীরে ধীরে বনসম্পদ জাতীয়করণ, বন্যপশু সংরক্ষণ, রেললাইন পত্তন, ভূমি সংস্কার আইন হওয়ায় অরণ্যচারী ধিমালদের জীবনশৈলীতে নেমে আসে বিরাট আঘাত। তখন বহু ধিমাল পরিবার গভীর জঙ্গলের খোঁজে পাড়ি জমায় নেপালের তরাই অঞ্চলের বনভূমির দিকে। তাছাড়া ঐ সময় শোনা যায় হাইজা (ডাইরিয়া) অসুখে বহু মানুষ মারা যায়। আজ ভারতীয় ধিমালরা দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ি মহকুমায় নকশালবাড়ী খড়িবাড়ী ব্লকে, মনিরাম হীডগিমা, বুড়াগঞ্জে বসবাস করে চলেছে। জনজাতি স্বীকৃতির অপেক্ষায় ধিমাল জনজাতির মানুষ পথ চেয়ে আছে। তাদের বুকে বহু ব্যথা বেদনা, দুঃখ। স্বাধীন ভারতে আজও তারা বঞ্চিত পাহাড়ের জনজাতি — তাই তারা বলে, কেলাএং হাসুবু মাখাংখে, কেলাএং হাসুবু মা কাইখে, হাইকেলাকে দোষ কেলাই মা গিখে ভারত আমা। অর্থাৎ আমাদের কেউ দেখে না, আমাদের কেউ ডাকে না আমাদের কি দোষ। আমরা জানি ভারত মাতা। তবে আশার কথা বাংলা নাটক ডটকমের সহযোগিতায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের West Bengal Khadi & Village Industries Board, A Statutory Board under the Dept. of MSME & T-র সঙ্গে ধিমাল সংগঠনের মৌ চুক্তি হয়েছে ধিমাল লোক সংস্কৃতি শিল্পকলা উন্নয়নের জন্য।
তথ্যসূত্র -
১। দিবস তুলসী-ধিমাল লোক সংস্কৃতি।
২। ReshiKeshals Raj 1991—The Dhimals Miraculous Migrants of Himalayas:
An Anthropological Study of a Nepalese Ethnic Group.
৩। Risley, Herbert H 1891. The Tribes and Castes of Bengal.
৪। Sannial Hari M—1980 History of Darjeeling in Bengal.
৫। Bandyopadhyay, Sekhar 2004. Dhimal Kolkata Centre for Folklore and Tribal
Culture.
৬। সোস ধিমাল ধিমাল জাতির চিনারী।
৭। পাত্র ধিমালের কিছু লেখা থেকে লেখার সূত্রের জন্য কৃতজ্ঞতা স্বীকার।
লেখক : ধিমাল ভাষা আন্দোলনের অগ্রগণ্য ব্যক্তিত্ব, বিশিষ্ট কবি ও প্রাবন্ধিক।