জ‌ওহরলাল নেহেরু

   স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর সৈনিক, স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও রূপকার পণ্ডিত জ‌ওহরলাল নেহেরু জন্মগ্রহণ করেন ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ই নভেম্বর। উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদ শহরে।তাঁর পিতা ছিলেন স্বনামধন্য পণ্ডিত মতিলাল নেহেরু। মাতার নাম স্বরূপরানী।

   মতিলাল বাড়িতেই পুত্রের শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। মিস্টার ব্রুকস নামে একজন অতি সুযোগ্য ইংরেজ শিক্ষককে জওহরলালের জন্য গৃহশিক্ষক নিযুক্ত করেছিলেন মতিলাল। ছোটবেলা থেকেই ইংরেজি লেখায় বিশেষ সিদ্ধহস্ত হয়ে ওঠেন জওহরলাল।

   বাড়িতে বাল্যশিক্ষা শেষে পিতা মতিলাল পুত্রকে বিলেতের সেরা বিদ্যালয় হ‍্যারো স্কুলে ভর্তি করেন। সেটা ছিল ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে এখানকার পড়া শেষে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হন জ‌ওহরলাল।কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রিনিটি কলেজ থেকে তিনি গ্ৰাজুয়েট হন ২০ বছর বয়সে। বিজ্ঞানে জ‌ওহরলাল একই সঙ্গে তিনটি বিষয়ে অনার্স (‘ট্রাইপস্’) পান।এরপর অত্যন্ত কৃতিত্বের সঙ্গে ব্যারিস্টারি পাস করেন জওহরলাল নেহেরু ইনার টেম্পল থেকে।১৯১২-তে তিনি এলাহাবাদ হাইকোর্টের ব্যারিষ্টর হন।

   ১৯২০-২১-এ তিনি গান্ধিজির অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯২১-২২-এ জওহরলাল কে কারারুদ্ধ করা হয়। ১৯২৭-এ কংগ্রেসের মাদ্রাজ অধিবেশনে তাঁরই উদ্যোগে ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতার প্রস্তাব গৃহীত হয়। ১৯২৯-এ কংগ্রেসের লাহোর অধিবেশনে তিনি সভাপতিত্ব করেন।১৯৩০-এর আইন অমান্য আন্দোলনে যোগ দিয়ে তিনি পুনরায় কারারুদ্ধ হন।আবার ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ঐতিহাসিক আগস্ট বিপ্লব শুরু হওয়ার পূর্বেই জওহরলালকে গ্রেপ্তার করেন ব্রিটিশ সরকার।

   ১৯৫১-তে দেশে প্রথম সাধারণ নির্বাচন হয়।স্বাধীন ও প্রজাতন্ত্রী ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও প্রথম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন যথাক্রমে ডঃ রাজেন্দ্রপ্রসাদ ও পন্ডিত জওহরলাল নেহেরু।

    ১৯৪৭-এর ১৪-১৫ আগস্টের মধ্যরাতে কনস্টিটুয়েন্ট অ্যাসেম্বলির সভায় শুরু হয়েছিল ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ : ‘বহু বছর আগে আমরা নিয়তির সঙ্গে সাক্ষাতের এক স্থানকাল নির্ধারণ করেছিলাম,আর এখন সেই সময় যখন আমাদের সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে... মধ্যরাত্রে, যখন জগৎ নিদ্রায় মগ্ন,ভারত জাগবে জীবন ও স্বাধীনতায়।’

   মানবতা,ধর্মনিরপেক্ষতা,অনুভূতিপ্রবণতা,চিন্তাশীলতা, জগদ্দর্শন প্রভৃতি নানাবিধ ক্ষেত্রে মহাত্মা গান্ধির পরেই দেশের বরেণ্য নেতা হয়ে উঠেছিলেন পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু। শিশুরা ছিল তাঁর অতিপ্রিয়।তারা তাঁকে ‘চাচা নেহেরু’ উপাধি দেয়।

   ইংরেজিতে লেখা তাঁর ‘অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’ (‘আত্মজীবনী’), ‘দ‍্য ডিসকভারি অব ইন্ডিয়া’(‘ভারত আবিষ্কার’) ও ‘গ্লিমপসেজ অব ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রি’ (‘বিশ্ব- ইতিহাস প্রসঙ্গ’) বিশ্বের অন্যতম সেরা তিনটি মহামূল্যবান গ্রন্থ।

   ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দের  ২৭শে মে পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরুর মৃত্যু হয়।